- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি , ২০২৬
মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শীত নিবারণে সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা এখন লেপ তোষক। ফলে ত্রিশাল পৌরবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানগুলোতে এখন তুঙ্গে ব্যস্ততা। দিন-রাত তুলা ধোনা আর সেলাইয়ের ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত কারিগরদের আঙিনা।
গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে গ্রামাঞ্চলে লেপ-তোষকের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। কারিগররা জানান, বছরের অন্যান্য সময় অলস সময় পার করলেও শীতের এই তিন মাস তাদের আয়ের মূল মৌসুম। কাজের চাপে অনেক দোকানেই এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় মিলছে না। নতুন লেপ তৈরির পাশাপাশি পুরোনো লেপ মেরামত বা নতুন করে তুলা ভরার ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিনে ত্রিশাল পৌরসভার বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিম্নবিত্ত মানুষরা তুলনামূলক কম দামে ঝুট তুলার লেপ কিনছেন, আর মধ্যবিত্তদের পছন্দ কার্পাস বা শিমুল তুলা। তবে বাজারে তুলা ও কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, "গত বছরের চেয়ে এবার একটি লেপ বানাতে ৩শ থেকে ৫শ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে। সব জিনিসের দাম বাড়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
পৌরবাজারের প্রবীণ কারিগর সেলিম মিয়া জানান, "প্রতিদিন একেকজন কারিগর ৩ থেকে ৪টি লেপ তৈরি করছেন। তবুও সময়মতো ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীত যত বাড়ছে অর্ডারের স্তূপ তত বড় হচ্ছে। ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে মানভেদে একটি লেপ তৈরি করতে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। শিমুল তুলার দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে কার্পাস তুলা বেছে নিচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল নিম্নবিত্ত ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ করতে দেখা গেছে।

