- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়কে গেলো এক কালো অধ্যায়। গেল এক বছরেই সারাদেশে ৭ হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক নিরাপত্তার এই করুণ চিত্র তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত বছর সড়কে প্রাণ হারানোদের মধ্য ১ হাজার ৮ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে। পরিসংখ্যান বলছে, নিহত শিশুদের ৪৬ শতাংশই ছিল সাধারণ পথচারী, যারা রাস্তা পার হতে গিয়ে বা পাশে হাঁটার সময় ঘাতক যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত শিশুদের মধ্যে ৪২ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছে থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির ধাক্কায়। এছাড়া বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাপায় মারা গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে (২৮ শতাংশ) এবং সকালে (২৬ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। শিশুদের বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (৪৪ শতাংশ)।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া এবং অদক্ষ বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে যানবাহনের চাবি থাকা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠনসহ ২১ দফা সুপারিশ পেশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, বরং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া সড়ক নিরাপদ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অনিয়ন্ত্রিত গতিই এই বিপুল প্রাণহানির প্রধান কারণ।

