- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০২৫
সেন্টমার্টিনে যাত্রার প্রস্তুতির মধ্যেই কক্সবাজারে নোঙর করা একটি পর্যটকবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজন কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়, কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজটিতে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে মারা যান জাহাজটির স্টাফ নূর কামাল। বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও যাত্রী ওঠার আগমুহূর্তে দুর্ঘটনা হওয়ায় শতাধিক পর্যটক রক্ষা পেয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাহাজে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন লাগার সময় জাহাজটি সেন্টমার্টিন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং তখনো কোনো পর্যটক জাহাজে ওঠেননি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, “জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জাহাজ কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কথা বললেও আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।”
নিহত নূর কামাল টেকনাফের বাসিন্দা এবং আটলান্টিক ক্রুজের স্টাফ ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোঙর করা অবস্থায় জাহাজের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো জাহাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, আগুন লাগার সময় জাহাজে কোনো পর্যটক ছিল না। তিনি বলেন, “জাহাজটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাত্রী ওঠার আগেই দুর্ঘটনা হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে।”
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, ওই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিল প্রায় একশ আশির মতো যাত্রীর। “বোর্ডিং শুরুর আগেই আগুন ধরে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের অন্য জাহাজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

