শাবল ও কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জখম: ট্রমা সেন্টারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন লিটন

Dailyreporttm_20251208_225042_0000

ছবি: লিটন

প্রতিবেদক: ফরহাদ হোসেন মায়া

ময়মনসিংহে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে লিটন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় লিটনের একটি পা ভেঙে গেছে এবং অপর পা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। চোখের সামনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন তার বৃদ্ধ বাবাও।

গত ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ সদরের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন অষ্টধার ইউনিয়ন কাউনিয়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বিথী বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—আকরাম হোসেন, সুলতান মিয়া, মো. হুমায়ুন, মো. সাদিক এবং মোছা. শামসুন্নাহার।

বাবার চোখের সামনেই চলে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনার দিন সকালে লিটন মিয়া ও তার বাবা ইলিয়াস আলী নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ আকরাম ও সুলতানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে।

সেদিনের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটনের বাবা প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি আর আমার পোলা (ছেলে) শান্তিমতো মাঠে কাজ করতেছিলাম। হঠাৎ আকরাম, সুলতান, হুমায়ুনসহ কয়েকজন এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমি চিৎকার করলেও তারা থামেনি। আমার চোখের সামনেই শাবল ও কোদাল দিয়ে আমার ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তারা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে লিটনের এক পা ভেঙে দেয় এবং আরেক পায়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। পরে স্থানীয়রা দৌড়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।”

রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা লিটন মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসার পর তার পায়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ট্রমা সেন্টারে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে এবং হাড় ভেঙে গেছে, যা সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

লিটন মিয়ার বড় ভাই নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আসামিদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এর আগেও তারা একাধিকবার আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা নিয়ে আদালতে একটি মামলা এখনো চলমান। সেই মামলার ক্ষোভ থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এর আগেও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একজন মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় লিটনের স্ত্রী বিথী বেগম বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com