- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: বুধবার, ২০ বৃহস্পতিবার, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
শুরুটা হয়েছিল করোনা মহামারির সেই ঘরবন্দি সময়ে। অনলাইনে ব্যবসা শুরু করায় চারপাশ থেকে উড়ে আসত নানা কটুকথা। মেয়ের এই সংগ্রাম দেখে মা প্রথমে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু মেয়ের অদম্য আগ্রহ আর স্বপ্ন দেখে সেই মাই একসময় বলে উঠলেন, পড়াশোনা কর, পাশাপাশি তোর ব্যবসাও চালিয়ে যা। মায়ের এই একটি কথাই বদলে দেয় উম্মে মাবদ সুমার জীবন। ছোট একটি ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করা সুমা আজ ময়মনসিংহের পরিচিত ও সফল নারী উদ্যোক্তা। নিজের হাতে তৈরি কাঠ, সুতো আর পুঁতির চমৎকার গয়নায় তিনি মুগ্ধ করছেন ক্রেতাদের।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মেয়ে উম্মে মাবদ সুমা। বর্তমানে ময়মনসিংহের হামিদউদ্দিন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে পড়াশোনা করছেন মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে (অনার্স ৪র্থ বর্ষ)। প্রবাসী স্বামী আসিফ হাসানের স্ত্রী সুমা পড়াশোনা আর সংসার সামলেও নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২০ সালে করোনার সময় অনলাইনে গয়না বিক্রির আইডিয়া মাথায় আসে তার।
সুমা জানান, প্রথম দিকে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার পর আশেপাশের অনেকেই নানা রকম নেতিবাচক কথা বলত। শুরুতে ব্যবসায় কিছুটা লোকসানও গুণতে হয়েছে তাকে। এসব দেখে তার মা তাকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সুমার ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল। মেয়ের এই আগ্রহ দেখে মা পরে নিজের মত পাল্টে তাকে উৎসাহ দেন। মায়ের সেই সমর্থনই সুমার জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষের কটুকথা আর শুরুর দিকের ক্ষতি পেছনে ফেলে সুমা এখন সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইনে খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারি দরেও গয়না বিক্রি করছেন। সম্পূর্ণ নিজের হাতে ডিজাইন করা কাঠ, পুঁতি আর সুতোর ৬ থেকে ৭ ধরনের ইউনিক গয়না তৈরি করেন তিনি, যা ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যে পরিবার একসময় দুশ্চিন্তায় ছিল, আজ তারাই সুমার এই পথচলায় পুরোপুরি সাপোর্ট করছে।
সুমার মতো এমন আরও অনেক নারী উদ্যোক্তাকে পথ দেখাতে কাজ করে যাচ্ছে 'উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংস্থা'। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক নারী আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জান্নাতুন নাহার আনিকা বলেন, আমাদের লক্ষ্য নারীদের স্বাবলম্বী করা। সুমার মতো মেয়েরা যখন নিজেদের মেধা দিয়ে সফল হয়, তখন আমাদের উদ্যোগগুলো সার্থক মনে হয়।
মানুষের নেতিবাচক কথায় কান না দিয়ে, নিজের ইচ্ছাশক্তি আর মায়ের অনুপ্রেরণাকে পুঁজি করে উম্মে মাবদ সুমা আজ প্রমাণ করেছেন—নারী চাইলে পড়াশোনা, সংসার এবং ব্যবসা সবকিছুই সমানতালে সামলাতে পারে। তিনি আজ ময়মনসিংহের বহু তরুণীর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

