মাঠে কাজ করলে পেট ভাত যাবে ‘ দিবস কী জানি না

IMG-20260501-WA0012

রাসেল আহমেদ,ময়মনসিংহ 

‎ময়মনসিংহের  চরাঞ্চলের কৃষক হাকিম মিয়া  বাড়িতে স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলে ও ছেলের বৌ আছে। ছেলে ও তার স্ত্রীর আলাদা সংসার। অনেক কষ্টে অর্থ জোগাড় করে সংসার চালাতে হয়। একদিন কাজ না করলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।

‎৪৩ বছর ধরে কাজ করছি। আগে দিনে ১৫০ টাকা ইনকাম করলেও তা দিয়ে ভালোভাবে সংসার চলে যেতো। এখন সারা দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ইনকাম করি। তা দিয়েও সংসার চলে না। 

‎শুক্রবার (১ মে)দুপুরে আক্ষেপ নিয়ে কথা গুলো বলেন হাকিম মিয়া।বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীকী দিন মে দিবস।আন্তর্জাতিকভাবে এই দিনটি শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। তবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এই দিনটি সম্পর্কে জানেন না জীবন-সংগ্রামে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়া হাকিম, রাবিয়া ও রাজ্জাকের  মতো শ্রমিকরা।

 

‎নিজে একজন শ্রমিক হয়েও শ্রমিক দিবসের কথাই জানেন না রাবিয়া খাতুন তিনি বলেন,শুধু আমার কর্মের ওপর ভিত্তি করে সংসার চলে না। অনেক কৌশলে সংসার চালাতে হয়। ধারদেনা-ঋণ করতে হয়। প্রতিদিনের ইনকাম দিয়ে প্রতিদিন চলতে হয়। অসুস্থ হলে মানুষের কাছে হাত পেতে চলতে হয়। 

‎খুব কষ্টে চলতে হয়। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমাদের কষ্ট দেখার মতো কেউ নেই।’

 

‎একই কষ্টের কথা তুলে ধরে রাজ্জাক বলেন,মে দিবস কী জানি না। কাম করে খেতে হয়।পরিবারের খরচ চালাতে একেক জনকে ১২, ১৪, ১৬ ঘণ্টা কাজ  করতে হচ্ছে। একদিন যদি কাজ না করে বসে থাকি, কেউ ১০টা টাকাও দেবে না। বসে থাকলে চলবে না, পেটে খাবার বন্ধ হয়ে যাবে।

 

‎দিবসটি শ্রমিকদের ছুটির দিন জানালে শ্রমিক আল আমিন জানান,কাজ করেই তো সংসার চালাতে পারছি না,কাজ একদিন না থাকলে সংসারে ঝামেলা সৃষ্টি হয়ে যায়,পরিবারের খরচের হিসাব মেলাতে শ্রমিক দিবসের ছুটির হিসাব বোঝেন না তারা। বরং নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে খেয়ে পরে বাঁচতে রাত দিন কাজ করতে হয় তাদের।


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com