- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল , ২০২৬
মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়ক নকল করে তৈরি করা চিপস, জুস, চকলেট ও পাউডার ড্রিংকস এখন উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। এসব খাদ্যের ক্ষতিকর রাসায়নিক শিশুদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া তৈরি করছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কলাহাটি মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এসব ভেজাল পণ্যের বিশাল পাইকারি ও খুচরা বাজার। অনুসন্ধানে জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় এসব অনুমোদনহীন পণ্য উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ছোট দোকানগুলোই তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব ভেজাল খাদ্যের মোড়কগুলো অত্যন্ত চাকচিক্যময় ও আকর্ষণীয়। রঙিন মোড়ক দেখে শিশুরা আকৃষ্ট হচ্ছে এবং অভিভাবকরা অনেক সময় না বুঝেই সন্তানের হাতে এসব ‘বিষাক্ত’ পণ্য তুলে দিচ্ছেন।
শিশুদের এই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ তামিম। তিনি বলেন, এসব ভেজাল খাদ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও নিম্নমানের উপাদান শিশুদের শরীরের জন্য বিষের মতো। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শিশুরা লিভার জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদী কিডনি সমস্যা এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মনি মদক বলেন, "আমার দোকানে কিছু পণ্য আছে, সবাই বিক্রি করে তাই আমিও করি। সবাই বন্ধ করলে আমিও করব।" আরেক ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া দায় চাপাচ্ছেন ঢাকার চকবাজারের ওপর। তিনি বলেন, "আমরা এসব পণ্য ঢাকার চকবাজার থেকে কিনে আনি। সেখানে বন্ধ হলে আমরাও আর আনতে পারব না।"
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোস্তফা কামাল টিটন জানান, ইতিপূর্বে খাদ্যে ভেজালের দায়ে পারভীন স্টোরের মালিক ফকির আলীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সম্প্রতি বাজার পরিদর্শন করে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। যারা শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবেই এই অসাধু চক্রটি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্যের সাথে কোনো আপস করা হবে না। কলাহাটি মোড়সহ উপজেলার প্রতিটি বাজারে খুব শীঘ্রই বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

