মসজিদের গাইড ওয়াল ভেঙ্গে ফেলায় মুক্তাগাছায় মসজিদের দেয়ালে ফাটল, ধসে গেছে ওযুখানা ও টয়লেট

Dailyreporttm_20260728_162137_0000

ছবি: কাঠবওলা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

ফেরদৌস তাজ মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি;

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের কাঠবওলা বাজারের পাশে বানার নদীর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে তিন তলা কাঠবওলা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ| এ মসজিদের ফাটল দেখা দেয়ায় মুসুল্লিরা আতঙ্কে নামাজ আদায় করে| মসজিদের ওজুখানা ও টয়লেট ইতিমধ্যে ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে| স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় ঠিকাদার মসজিদের নদীরপাড়ের অংশের গাইড ওয়াল ভেঙ্গে ফেলায় এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে মসজিদটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে|

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের বানার নদীর তীরে কাটবওলা বাজারে কাটবওলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অবস্থিত| মসজিদের পাশ দিয়ে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের জন্য বানার নদীর ওপর পুরাতন কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদন হয়| ¯^র্ণা ব্রিক্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ পায়| ঠিকাদার সেতুর পিলার স্থাপন করার জন্য পিলারের পাইলিং করার সময় পাশে থাকা তিনতলা মসজিদের নদীর পাড়ের অংশের গাইড ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে| মসজিদ কমিটির লোকজন ও স্থানীয় মুসল্লিরা এতে বাঁধা দেয়| ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাইলিং করার পর মাটি ভরাট করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে| তিন বছরে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করলেও এখন পর্যন্ত মসজিদের পাশের অংশে মাটি ভরাট করে গাইড ওয়াল নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই| এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বারবার ঠিকাদারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে| আজ করবে তো কাল করবে বলে ৩ বছর পার হয়ে গেল|

মুক্তাগাছায় আরও পড়ুন

মুক্তাগাছায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; গ্লাভস ও ডাস্টবিন বিতরণ https://dailyreportlive.com/tj4/​​​​​​

এদিকে গাইড ওয়াল না থাকায় চলতি বর্ষায় মসজিদের নদীর পাড়ের অংশের মাটি সরে গেছে| এতে করে মুসল্লিদের ওযুর স্থান, টয়লেট ভেঙ্গে নদীতে চলে গেছে| বারান্দার ফ্লোরের নিচের মাটি সরে গেছে এবং মসজিদ ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে| দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সম্পূর্ণ মসজিদটি নদীতে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে| 

এ ব্যাপারে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের আশ্বস্ত করেছিল, মসজিদের কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না| নির্মাণ কাজের কারণে যদি কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে| পাশাপাশি মসজিদের উন্নয়নেও সহযোগিতা করা হবে| কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির পরও ঠিকাদারের কাছ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন|

স্থানীয়রা আরও জানান, সমস্যার কথা জানাতে গেলে ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন| আবার উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি বিষয়টি ঠিকাদারের সঙ্গে সমাধানের কথা বলেন| এতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না|

মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান, ওজুখানা ও টয়লেট ধসে পড়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগ বেড়েছে| প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে| ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো স্থাপনাটির স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ ˆতরি হয়েছে| পাশাপাশি নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক| তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন|

অভিযোগের বিষয়ে সেতুর নির্মাণকাজের ঠিকাদার ¯^র্ণা ব্রিকসের মালিক আতিকুল ইসলামের সাথে ফোনে একাধিকবার যেগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি| পরে হোয়াটস এ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি| 

 

মুক্তাগাছা উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, "মসজিদের ক্ষতির বিষয়টি আমরা জেনেছি| ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| কারিগরি দল ক্ষয়ক্ষতির কারণ ও ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন করবে| যদি নির্মাণকাজের সঙ্গে ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া যায়, তাহলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|"

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, সেতু নির্মাণ করার সময় কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, মসজিদের বারান্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নিচে থেকে মাটি সরে গেছে| সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার নিজে এটা ঠিক করে দিবে| তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক আগে আমাদের পিডি মহোদয় এখানে এসেছিলেন এবং মসজিদটির একাংশ ভেঙে গেছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে তিনি এটি দেখেছেন| তিনি (পিডি) ঠিকাদারকে বলেছেন, ঠিকাদার কাজটি করে দেওয়ার আশ^াস দেন বলে জানান| আমরা লোকাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা চাইলে আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করব|

 


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com