ময়মনসিংহে চাচিকে নিয়ে উধাও প্রতিবেশী ভাতিজা, থানায় অভিযোগ চাচার

Dailyreporttm_20260722_110447_0000

মোঃ ফরহাদ আলী (মায়া)  ময়মনসিংহ:

য়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বামী। অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুলাই নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দের (২৭) হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছেন চাচি ঝরনা রানি।

অভিযোগকারী স্বামী মনি চন্দ্র দে (৩২) দাবি করেছেন, তার স্ত্রী ঝরনা দে ওরফে মায়ার (২৫) সঙ্গে তার সাত বছরের সংসার। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। ছেলেকে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন ঝরনা রানি। একপর্যায়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।

গত ১৫ জুলাই বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন মনি চন্দ্র দে। অভিযোগে তিনি স্ত্রী এবং একই এলাকার প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দেকে অভিযুক্ত করেছেন।

লিখিত অভিযোগে মনি চন্দ্র দে উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘ সময় তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ সুযোগে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে সতর্ক করা হলেও তিনি পরকীয়া থেকে সরে আসেননি। ১ জুলাই অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে কৌশলে তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি।

মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

 এ বিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। প্রতিবেশী চাচির সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনাটি সত্য। সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মনি চন্দ্রকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুদ্র ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি নম্বরে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দের চাচা রনজিত চন্দ্র দে নম্বরে কল দিলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে ঝরনার মোবাইল ফোনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। ঝরনা তার স্বামী মনি চন্দ্র দেকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। 

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ নিয়ে মনি চন্দ্র দে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com