মুক্তাগাছায় বাবলু বনাম আকন্দ: ভোটের মাঠে দুই মেরুর লড়াই

Dailyreporttm_20251218_151808_0000

প্রতিবেদক: মোঃ ফরহাদ হোসেন 

জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জোটগত রাজনীতির হিসেব-নিকেশ বদলে যাওয়ায় এবার মাঠ দখলে মরিয়া উভয় দলের প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর মুক্তাগাছায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে শক্তির এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু। তিনি সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মরহুম একেএম মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই। ভাইয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ধানের শীষের নিজস্ব ভোটব্যাংক তার মূল ভরসা। তবে কেবল পারিবারিক পরিচয় দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া এবার সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘদিনের ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির সাংগঠনিক ভিত মজবুত রেখে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। এতদিন জোটগত রাজনীতির কারণে জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন যাচাইয়ের সুযোগ ছিল সীমিত। এবার কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আকন্দের প্রার্থিতা জামায়াতের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের বাগ্মিতা ও দলের ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ।

এদিকে নির্বাচনী মাঠে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস এবং এনসিপির তৎপরতাও লক্ষ্যণীয়। মূল লড়াই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে হলেও, জাতীয় পার্টি বা ইসলামী দলগুলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট কাটলে তা জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সাবেক এমপি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তির নিজস্ব কিছু অনুসারী থাকায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাধারণ ভোটাররা এবার বেশ হিসেবী। গতানুগতিক প্রতিশ্রুতি বা আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোট দিতে নারাজ তারা। স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্যমতে, “শুধু মুখের কথায় চিড়ে ভিজবে না। অতীতে কে কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কে সত্যিই মুক্তাগাছার উন্নয়ন করতে পারবেন, তা যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” প্রার্থীদের জন্য এবার ভোটারদের মন গলানো বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শীতের আমেজের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। চায়ের কাপে ঝড় উঠলেও ভোটাররা এখনই মুখ খুলছেন না। পারিবারিক ঐতিহ্যের পরীক্ষায় জাকির হোসেন বাবলু নাকি একক শক্তি প্রদর্শনে মতিউর রহমান আকন্দ—কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নির্ভর করছে মুক্তাগাছার সচেতন ভোটারদের ওপর।


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com