
নুরুল ফেরদৌস লালমনিরহাট
পুরোপুরি শীতের মৌসুমে লালমনিরহাট ৫ টি উপজেলার কাঁচাবাজারগুলো যেন রীতিমতো সবজির উৎসবমুখর চেহারা নিয়েছে। বাজারজুড়ে শীতকালীন সবজির প্রাচুর্য, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমেছে না দাম শীতের সময় সবজির দাম স্বস্তি ফিরে পাচ্ছে না সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলা পাটগ্রাম হাতীবান্ধা কালীগঞ্জ আদিতমারী লালমনিহাট সদরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালংশাক, লালশাকসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন সকালে আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ০০ টাকা প্রতি কেজি, বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত, টমেটো ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৩০ টাকা, ঢেড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, লাউ সাইজ অনুযায়ী ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ফুল কপির পিস ৪০ টাকা থেকে শুরু, বাঁধাকপি ৫০ টাকা থেকে শুরু, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা থেকে শুরু, করলা ৫০ টাকা কেজি, লাউ শাকের চারটি ডগা ৩০ টাকা, লাল শাকের মুঠি ২০ টাকা, সরষে শাক ১ মুঠি ২০ টাকা। ক্রেতারা আসছেন আর দাম শুনে বিভিন্ন সময়ে তর্কে জড়াচ্ছেন দোকানির সঙ্গে। এক দোকান থেকে আরেক দোকান আরেক দোকান থেকে আরেক দোকান ঘুরেই কাটিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ।
ক্রেতারা বলছেন, সারা বছর ধরে সবজির বাড়তি দাম তাদের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করেছিল। শীত আসার ফলে সেই চাপ কিছুটা হলেও কমেছে সবজীর বাজার
শিয়ালখোওয়া বাসিন্দা গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, আগে ২০০–৩০০ টাকায় অল্প কয়েকটা সবজি নিতে হতো। এখন একই টাকায় ব্যাগ ভরে সবজি পাওয়া যায় না পরিবারের খাবারের মেনুতেও বৈচিত্র্য আসছে।
আরেক ক্রেতা একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস কর্মচারী সামাদ মিয়া জানান, সবজির দাম বেশি থাকায় এখন নিয়মিত সবজি খাওয়ার সুযোগ তেমনটা আর হচ্ছে না শীতকালটা আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য সত্যিই আরামদায়ক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এখন আর নেই
বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলছেন, শীত মৌসুমে মাঠপর্যায়ে উৎপাদন বেড়ে যায় কিন্তু এবারে শীত বেশি হয় সরবরাহ ভালো হচ্ছে না ফলে দাম তুলনামূলক একটু বেশি
নামুড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হেলাল মিয়া বলেন, এখন কৃষকরা বেশি সবজি বাজারে পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ করে শীত বেশি অনুভূত হয় কৃষকরা কাঙ্খিত পাচ্ছে না পাঠাচ্ছেন।
আরেক বিক্রেতা জানান, বশি দামে বিক্রি হলেও ক্রেতার সংখ্যা কমে যায় মোট বিক্রি সন্তোষজনক হয় না তার ভাষায়, দাম কম থাকলে মানুষ বেশি কেনে। এতে আমাদেরও পণ্য পড়ে থাকে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে শীতকালজুড়ে সবজির দাম বেশি থাকতে পারে।