
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে সরাসরি বিমান যোগাযোগ। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি রাত ৮টায় ছেড়ে স্থানীয় সময় রাত ১১টায় করাচিতে অবতরণ করবে। ফিরতি পথে করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছাবে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে।
এতদিন সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের দুবাই বা দোহা হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যবহার করতে হতো। এতে ঢাকা থেকে করাচি পৌঁছাতে সময় লাগত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা, কখনো কখনো তা ১৮ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়িয়ে যেত। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন সময় ও দুর্ভোগ দুটোই কমবে।
বর্তমানে ট্রানজিট ফ্লাইটে ইকোনমি ক্লাসে রিটার্ন ভাড়া ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভাড়া কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিসিএএ) নতুন রুট চালুর অনুমোদন দিয়েছে। বিমানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের গণ–অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনাই এই রুট পুনরায় চালুর পেছনে প্রধান কারণ।
বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “নতুন এই রুট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। আধুনিক উড়োজাহাজ ও অভিজ্ঞ ক্রু দিয়ে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
এদিকে, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে যে, উড়োজাহাজের স্বল্পতা, আসন্ন হজ কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে আগামী ১ মার্চ থেকে ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।