Dailyreport Live
Dailyreport Live
Monday, 05 Jan 2026 18:00 pm
Dailyreport Live

Dailyreport Live

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। হাজারো প্রসূতি মায়ের কাছে হয়ে উঠেছিলেন নিরাপদ আশ্রয়। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেই জনপ্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা আক্তারকে এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে তার কর্মস্থল।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ছিল সেলিনা আক্তারের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। তার দীর্ঘ ৩২ বছরের সততা, নিষ্ঠা ও সেবার প্রতি সম্মান জানিয়ে সহকর্মীরা তাকে সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানান। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করতালির মাধ্যমে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

৩২ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে সেলিনা আক্তার প্রায় ১০ হাজার প্রসূতির স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। মাতৃ ও নবজাতক সেবায় তার এই অসামান্য অবদান পুরো ত্রিশালজুড়ে প্রশংসিত। তার নম্র ব্যবহার ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি রোগী এবং তাদের স্বজনদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন আস্থার প্রতীক।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারী বলেন, “সেলিনা আক্তার একজন আদর্শ নার্স। নরমাল ডেলিভারিতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আমাদের হাসপাতালের জন্য এক বিশাল সম্পদ ছিল। তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন হবে।”

হাসপাতালের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা সাদিকুর রহমান জানান, সেলিনা আক্তারের পুত্রবধূ শাহিদা আক্তারও একই হাসপাতালে মিডওয়াইফ হিসেবে কর্মরত। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এই মানবিক সেবা সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়লগ্নে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অশ্রুসজল চোখে সেলিনা আক্তার বলেন, “মানুষের সেবা করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কী পেলাম বা না পেলাম সেটি বড় কথা নয়, সারাজীবন মানুষের পাশে থাকতে পেরেছি, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি—এটাই আমার পরম তৃপ্তি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

মায়ের এমন সম্মানে গর্বিত ছেলে জিম্মানুল আনোয়ার বলেন, “মায়ের এই পরিচয় এবং মানুষের এই ভালোবাসাই আমাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।”

Your application license has expired!
Contact bdtask.com