
সাংবাদিকতার প্রথম ও শেষ শর্ত, শিরদাঁড়া সোজা রাখা। সত্যের পথে অটল থাকা মানেই আপস না করা, ভয়কে অগ্রাহ্য করে দায়িত্ব পালন করা। এই পথ সহজ নয়। শিরদাঁড়া সোজা থাকলে আশপাশে শত্রু বাড়ে, চাপ আসে, হুমকি নেমে আসে তবু একটি বিষয় কখনো কমে না, তা হলো সম্মান।
যেখানে চাটুকারিতা পুরস্কৃত হয়, সেখানে নির্ভীক সাংবাদিকতা অনেকের চোখে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ক্ষমতার অসন্তোষ, সুবিধাভোগীদের ক্ষোভ, অসাধুদের রোষ সবই সোজা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক মূল্য। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে কেবল সেই সাংবাদিকতাই, যা সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়।
সাংবাদিকতা কোনো তোষামোদ নয়, এটি জনস্বার্থের পক্ষে অবস্থান। কলম যখন বিবেকের নির্দেশে চলে, তখন তা হয়ে ওঠে সমাজের আয়না। আর এই আয়নায় নিজেদের বিকৃত চেহারা দেখতে না পেয়ে যারা ক্ষুব্ধ হয়, তারাই সাংবাদিকের প্রকৃত প্রতিপক্ষ।
শিরদাঁড়া নত করলে সাময়িক সুবিধা মিলতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে সব শেষ। অন্যদিকে শিরদাঁড়া সোজা রাখলে হয়তো পথ কণ্টকাকীর্ণ হয়, কিন্তু জনমানুষের আস্থা, ইতিহাসের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ভয়হীন, আপসহীন ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা। কারণ সাংবাদিকের কলম নত হলে নত হয় সত্য, ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র। শত্রু বাড়ুক কিন্তু মেরুদণ্ড নয়, এই অঙ্গীকারেই বেঁচে থাকুক সাংবাদিকতা।
লেখক: শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত