
মোঃ ফরহাদ আলী (মায়া), ময়মনসিংহ:
প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ, এরপর সেই গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল। লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে মাসের পর মাস পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে তিন বন্ধু। সর্বশেষ সেই নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কিশোরী যখন তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখনই ধারণকৃত সেই গোপন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত তিন বন্ধুর একজনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বাকি দুই অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে গোপালনগর গ্রামের ওই কিশোরীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তিন যুবক। এ সময় তারা এই জঘন্য মুহূর্তের ভিডিও নিজেদের মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গত দুই মাস ধরে পালাক্রমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে জুয়েল, মো. রাজন ও মো. হৃদয় নামের তিন যুবক।।
ভয়ে, আতঙ্কে ও লোকলজ্জায় মেয়েটি এবং তার পরিবার দিনের পর দিন এই নারকীয় যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি মেয়েটি তাদের পাশবিক ডাকে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিলে, ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকরা ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
গোপন ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৯ জুলাই) অভিযুক্তদের অন্যতম কালামের ছেলে জুয়েল মিয়াকে (২৩) এলাকায় ঘুরতে দেখে স্থানীয়রা। মুহূর্তেই উত্তেজিত জনতা তাকে ঘেরাও করে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত জুয়েলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই অভিযুক্ত মো. রাজন ও মো. হৃদয় এখনো পলাতক রয়েছে।
লোকলজ্জার সেই ভয় ভেঙে এখন ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার। তারা এই তিন নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্থানীয়দের খবর পেয়ে অভিযুক্ত জুয়েলকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পলাতক বাকি দুই অভিযুক্ত মো. রাজন ও মো. হৃদয়কে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।