
টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আন্দোলন ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন আমার ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় নেই। আমি ইন্টারভিউ দেব না, সংসদে প্রশ্নোত্তরের জবাব দেব। সংসদে প্রশ্নোত্তর দিয়ে নেই, তারপর ইন্টারভিউ দেব।”
অন্য এক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “আমি সংসদ অধিবেশনে আছি। পরে মন্তব্য করব।”
এর আগে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, উত্তরা এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধের কারণে সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা হলে পথে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। কর্মসূচিতে তারা “দফা এক, দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ”, “বন্যা, জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়” এবং “ভোগান্তির দায় নিতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘ যানজটের কারণে দেশের অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সোমবারের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।”
আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। নীলক্ষেত থেকে টিএসসিমুখী সড়কে একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকেন।
এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সব শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সব বোর্ডে পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।