
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে নাম না থাকলেও পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে হুমকিদাতাকে শনাক্তের চেষ্টা করছে। এদিকে, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদ মুক্তাগাছা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক ইনকিলাব-এর মুক্তাগাছা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনস্বার্থ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টা ২২ মিনিটে একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদ বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করছি। সত্য তুলে ধরার কারণে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
ঘটনাটি নিয়ে মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ফেরদৌস আলম বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পেশাগত দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা যাবে না। একজন সাংবাদিকের ওপর হুমকি পুরো গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হুমকির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যাকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অতীতেও একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার তথ্য পুলিশের রেকর্ডে রয়েছে। প্রাপ্ত পিপিআর (Previous Police Record) অনুযায়ী, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার মামলা নং-২০/২০২৩-এ তাকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৩৮০, ৩০৭, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৩, ৫০৬, ৩৪ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, হুমকির ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি একটি ভিডিও দেখেছি এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। তারা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।