
রাসেল আহসেদ,
বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে স্কুলের মাঠকে কৃত্রিম ডোবায় পরিণত করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ময়মনসিংহের সদর উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওর্য়াডের সুহিলা গ্রামের আহমেদ আলী প্রিমিয়ার মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে রোববার (২১ জুন) বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অবৈধ বাঁধ অপসারণ করো সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠটি এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মাঠের ঘাস পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নোংরা পানি মাড়িয়ে ক্লাসরুমে যাওয়ার সময় প্রায়ই পা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ড্রেনটি সম্প্রতি স্থানীয় আরিফ গং ও জাকির গং রা ব্যক্তিস্বার্থে মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে চারপাশের পানি মাঠে এসে জমলেও তা বের হওয়ার কোনো পথ নেই।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী লোকমান বলেন,একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিজেদের স্বার্থে বিদ্যালয়ের পানি যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।মাঠে এখন পানি থাকায় বিদ্যালয়ে ঠিকমত আসতে পারি না।সামনে আমাদের পরীক্ষা এখনো সিলেবাসের অনেক অংশ বাকি রয়ছে।মাঠে পানি থাকায় স্কুলে ক্লাস হয় কম।আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বিথী আক্তার বলেন,মাঠে পানি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে। ভয়ে অনেকে এখন আসতে চাই না বিদ্যালয়ে। সামনে পরীক্ষা এখন এ সময়ে মাঠে পানি থাকায় ক্লাস কম হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হবে।আমরা ঠিকমত স্কুলের ক্লাসে আসতে চাই। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চাই।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষাথীর অভিভাবক রা বলেন,মাঠে পানি থাকায় অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে ছেলে মেয়ে রা। পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় মানুষ ঘড় বাড়িতে পানি ঢুকছে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।
এ বিষয় অভিযুক্ত আরিফ রব্বানী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এই সব অভিযোগ মিথ্যা আমি পানি প্রবাহ বন্ধ করি নাই।আমার চাচা আমার সম্পত্তি জোড় করে দখল করে আমাকে দোষারোপ করছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন,এই বিষয় টা নিয়ে আমার কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসে নাই।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।