
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আব্দুল হালিম শিকদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মুন্সিগঞ্জ জেলায় কর্মরত আব্দুল হালিম সিকদার দরিদ্র পরিবারের জন্ম গ্রহণ করলেও চাকুরীর সুবাদে পরিবারসহ এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে হাসিনা সরকারের সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। তৎকালীন প্রভাবশালী এক নেতার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একই স্থানে, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর চাকুরি করেন এই আব্দুল হালিম। চাকুরির সুবাদে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সাধারণ শিক্ষকদের অত্যান্ত সু-কৌশলে, ঠান্ডা মাথায় ধোকা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । তার মধ্যে ৪০টি অস্থিত্বহীন কেন্দ্র হতে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা দীর্ঘ ১০ বছরে হাতিয়ে নেন তিনি। ৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ছিল তার শ্বশুর মোঃ আকতারুজ্জামানের কেন্দ্র নয়াপাড়া কালিমুল্লাহ মাদ্রাসা, রহিতপুর ইউনিয়ন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক নিয়োগ বার্ণিজ্য, জাল সনদে চাকুরি, কারসাজিতে অস্থিত্বহীন কেন্দ্র, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিধিবহিভূত নানান কর্মকান্ড করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে।
এছাড়াও ভূয়া স্বপ্ননীড় আবাসন প্রকল্প নামে একটি সমিতি গড়ে তুলেন। এই সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম সিকদার। এই প্রকল্পের নামে নয়ছয় করে জাল-জালিয়াতি মাধ্যমে নামে-বে নামে করেছেন একাধিক জায়গা জমি। সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অল্প সময়ে প্রায় কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর এক কর্মকর্তা জানান, আব্দুল হালিম একজন দুর্নীতিবাজ মানুষ। টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না। চাকরি জীবনে অনিয়ম ও ঘুষ খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওনাদের মত মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠানের বদনাম হয়। আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে আব্দুল হালিম শিকদার ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের আকছাইল গ্রামের ১৫ শতাংশ জমির উপরে ৬তলা ফাউন্ডেশনের একটি বিল্ডিং এর একতলা নিমার্ণে তার ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। রুহিতপুর ইউনিয়নের লাকীরচর গ্রামে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। একই উপজেলায় বাস্তা ইউনিয়নের কোন খোলায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ছয় শতাংশের একটি প্লট রয়েছে তার।
এসব বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার আব্দুল হালিম শিকদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।