Dailyreport Live
Dailyreport Live
Sunday, 11 Jan 2026 18:00 pm
Dailyreport Live

Dailyreport Live

নুরুল ফেরদৌস লালমনিরহাট।।

লালমনিরহাট জেলা সদরে অবস্থিত বড়বাড়ী বাজারের ভিড়ে দূর থেকেই কানে আসে সেলাই মেশিনের একটানা যান্ত্রিক শব্দ। এই শব্দের তালে তাল মিলিয়েই গত ২২ বছর ধরে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্য ফিরিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা সান্ত্বনা রানী রায় নামে নারী

এক সময়ের চরম অভাব-অনটনে জর্জরিত সান্ত্বনা রানী আজ কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং এলাকার শত শত নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম অনুপ্রেরণার বাতিঘর।।

সান্ত্বনা রানীর এই যাত্রার শুরুটা অনেক কষ্টসাধ্য ছিল ১৯৯৬ সালে দিনমজুর স্বামীর সংসারে অভাব ছিল তার নিত্যসঙ্গী।

নুন আনতে পান্তা ফুরাতো’ যার ঘরে, সেই কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর পড়তে পারিনি সান্ত্বনা, কেবল চোখের জল ফেলে দারিদ্র্য দূর হবে না। প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক উদ্যোগ। সেই সংকল্প থেকেই দারিদ্র্যজয়ের হাতিয়ার হিসেবে তিনি বেছে নেন সেলাইয়ের কাজ।

লালমনিরহাটে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন তিনি। ২০০৪ সালে মাত্র ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে প্রতিষ্ঠা করেন তার একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘এস বি টেইলার্স।সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বছরে টেইলার্স থেকে তার আয় এখন প্রায় ১ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি গড়েছেন সম্পদ, বাড়িতে পালন করছেন বিভিন্ন ধরনের গবাদি পশু।

সুই-সুতার ফোঁড়ে বোনা স্বপ্নেই বদলে গেছে সান্ত্বনার পৃথিবী। যে সংসারে একসময় দু'মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা ছিল না, সেখানে আজ শিক্ষার আলো জ্বলছে। তার উপার্জনেই বড় মেয়ে পড়ছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে, আর ছোট মেয়ে পড়াশোনা করছেন লালমনিরহাট মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজে।

নিজের সংগ্রামের কথা জানাতে গিয়ে সান্ত্বনা রানী রায় বলেন, ২২ বছর ধরে এই বাজারে দোকান করছি। শুরুটা খুব কঠিন ছিল। যাতায়াত ভাড়ার অভাবে হেঁটে গিয়ে কাজ শিখতাম। তবে পরিবারের সমর্থন ছিল। আজ ভালো লাগছে এটা ভেবে যে, আমার হাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। আমার শেষ ইচ্ছা, দুই মেয়ে যেন উচ্চশিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হতে পারে।’

সান্ত্বনা রানীর ‘এস বি টেইলার্স’ এখন কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গ্রামের অবহেলিত নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক পাঠশালায় রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৫০ নারীকে তিনি হাতে-কলমে কাজ শিখিয়েছেন।

এস বি টেইলার্সে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া রোজিনা বেগম বলেন, আগে অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসাবে কাজ করতাম। কাজ না থাকলে না খেয়ে থাকতে হতো। (সান্ত্বনা) কাছে কাজ শিখে এখন তার দোকানেই কাজ করছি। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। আমার আর কোন অভাব নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সান্ত্বনা রানীর এই উদ্যোগকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী দীপক কুমার রায় বলেন, ‘তিনি ২২ বছর ধরে এই দোকানটি পরিচালনা করছেন। গ্রামের অসহায় নারীদের তিনি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেন, যা প্রশংসনীয়। এতে নারীরা কারো কাছে হাত না পেতে নিজেরাই সংসারের হাল ধরতে পারছেন।

Your application license has expired!
Contact bdtask.com