- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: শনিবার, ০৪ এপ্রিল , ২০২৬
মোঃ ফরহাদ আলী, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত ১ সপ্তাহে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাত, জুয়ার আসরে পিটুনি এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে। একের পর এক খুনের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক ও শঙ্কা বিরাজ করছে।
গত ২৬ মার্চ রাত ৯টার দিকে খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চালক মানিক মিয়াকে (৪১) ছুরিকাঘাত করে রিকশা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৮ মার্চ একই এলাকায় জাহিদ (১৯) নামে আরেক চালককে বেঁধে অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়।
এঘটনায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নেমে ছিনতাই চক্রের মূল হোতা রাশিদুল (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪২), রেজাউল করিম রেজা (২৬), আ. রাহিম (১৯) এবং সুজন মিয়াকে (২০) ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
দ্বিতীয় খুনের ঘটনাটি ঘটে গত ১ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে জগন্নাথবাড়ি গ্রামে। নাতনির বিয়ের আগে জামাতা হাফিজ উদ্দিন ও তার চাচাতো বোন পারুল আক্তারের মধ্যে ৫ হাজার টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া বাধে। খবর পেয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন (৬৫) তার ছেলে নাজমুলকে নিয়ে ঝগড়া মেটাতে যান এবং বিয়ের পরদিন টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু পারুল আক্তারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই লোকমান হোসেন নিহত হন এবং তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায়। বিন্নাকুড়ি গ্রামের জাহিদুল নামে এক সেনাসদস্য ছুটিতে বাড়িতে এসে জানতে পারেন তার বাবা জুয়া খেলছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে জুয়ার আসরে গিয়ে বাবাকে গালমন্দ করেন। এ সময় জুয়ার আসরে উপস্থিত দুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান সাজু (৫৫) প্রতিবাদ করলে জাহিদুল ও তার সঙ্গীরা সাজুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুক্তাগাছা উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। একের পর এক এই খুনের ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ও তৎপর না হয়, তবে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। অপরাধীদের লাগাম টানতে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মুক্তাগাছা থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানান, প্রতিটি ঘটনারই তদন্ত চলছে। অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যা চক্রের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুটি ঘটনার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ।

