বকশীগঞ্জে বাসে ধর্ষণের নাটক: অর্থের বিনিময়ে আপসের অভিযোগ

Dailyreporttm_20260326_180905_0000

মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

জামালপুরের বকশীগঞ্জে যমুনা পরিবহনের একটি বাসে শিশু সন্তানকে জিম্মি করে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সেই নারী শেষ পর্যন্ত নিজের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে স্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাসের মালিকপক্ষ ও অভিযুক্তদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গোপন সমঝোতা করেই তিনি এই অভিযোগ থেকে সরে এসেছেন।

অভিযোগকারী আল্পনা আক্তার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্নঝোড়া এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার ঢাকা থেকে আসার পথে তিনি অভিযোগ তোলেন, যমুনা পরিবহনের একটি বাসে সুপারভাইজার পাখিসহ ৫-৬ জন তার সন্তানকে জিম্মি করে তাকে গণধর্ষণ করেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা শেরপুর আখের বাজার এলাকায় বাসটি আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি জব্দ করে।

বাসটি জব্দ করার কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটনার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। আল্পনা আক্তার সাংবাদিক ও স্থানীয়দের কাছে স্বীকার করেন, বাসের ভাড়াকে কেন্দ্র করে সুপারভাইজারের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সেই রাগের মাথায় তিনি ধর্ষণের মতো ভয়ংকর মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিলেন।

তবে এই আকস্মিক ভোল পাল্টানো নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ ও রহস্য দানা বেঁধেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাসের মালিকপক্ষ ও অভিযুক্তদের স্বজনরা ওই নারীর সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রফাদফা করেছেন। মূলত এই গোপন সমঝোতার মাধ্যমেই তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধর্ষণের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানো বা অর্থ উপার্জনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন ‘মিথ্যা নাটকের’ কারণে সমাজে প্রকৃত নির্যাতিত নারীরা ভবিষ্যতে আইনি সহায়তা পেতে বাধার সম্মুখীন হবেন। মানুষ এখন থেকে সত্যিকারের ধর্ষণের ঘটনাকেও সন্দেহের চোখে দেখবে। তারা এই নারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, স্থানীয় জনতা বাসটি আটক করে খবর দিলে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনাস্থল বকশীগঞ্জ এলাকায় হওয়ায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


Comment As:

Comment (0)


Your application license has expired!
Contact bdtask.com